আটকে আছে ১১ হাজার ভিসা * হতাশ বিদেশ গমনেচ্ছু ও রপ্তানিকারকেরা

Spread the love

লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পাঁচ মাস বন্ধ

শরিফুল হাসান

লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পাঁচ মাস ধরে বন্ধ। দেশের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটি আবার কবে চালু হবে, সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ বছরের জুনে লিবিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আসার কথা থাকলেও তারা আসেনি। ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, সমস্যা সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তবে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। ফলে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরও প্রায় ১১ হাজার ভিসা এখন আটকে আছে। এর ফলে আটকে আছে কয়েক শ কোটি টাকা । জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুরে‌্যার (বিএমইটি) অভিবাসন শাখা থেকে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারিতে দুই হাজার ২৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৮৬৮, মার্চে দুই হাজার ৯৫৭ এবং এপ্রিলে তিন হাজার ২৬৮ জন কর্মী লিবিয়ায় যান। কিন্তু এপ্রিল মাসের পর থেকেই দেশটি বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি বন্ধ করে দেয়। ফলে মে মাস থেকেই জনশক্তি রপ্তানি কমে যায়। মে মাসে এক হাজার ৬২৬ জন এবং জুনে মাত্র ৩৮৯ জন কর্মী লিবিয়ায় যান। এরপর গত জুলাই থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত আর একজন শ্রমিকও লিবিয়ায় যাননি। রাজধানী ত্রিপোলির একটি ব্রিটিশ কোম্পানির ব্যবস্থাপক বাংলাদেশি ইয়াহিহয়া খান প্রথম আলোকে বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু বিদেশি কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু লিবিয়া সরকার তাঁদের জানায়, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে তারা অনুমতি দেবে না। বিষয়টির সুরাহার জন্য তিনি ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। কিন্তু দূতাবাস থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তিনি ভিয়েতনাম থেকে শ্রমিক নিয়োগে বাধ্য হন। জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হেভেন ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিদারুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘হঠাৎ লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম বিপদে পড়েছি। আমার এক কোটি টাকা আটকে আছে। শুধু আমার নয়, বায়রার সদস্যদের মোট ১১ হাজার ভিসা আটকে আছে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, আমাদের মানসম্মান নিয়েও টানাটানি পড়েছে।’ লিবিয়ার বাজার চালু করতে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জানতে চাইলে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কবির সিদ্দিকী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শুধু বাংলাদেশই নয়, লিবিয়া অন্য দেশগুলো থেকেও জনশক্তি আমদানি বন্ধ রেখেছে। বাজারটি চালু করার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।বিএমইটি ও বায়রা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বিশ্বমন্দার কারণে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে সংকট দেখা দিলে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আবির্ভূত হয় লিবিয়া। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার পর দেশটিতে শুরু হয় পুনর্গঠন ও উন্নয়নের কাজ। এর ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শ্রমিকদের দেশটিতে পাড়ি জমানো শুরু হয়। কিন্তু জাল ভিসা, প্রতারণাসহ নানা কারণে দেশটিতে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সম্প্রতি সংকট সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বছরের ১১ জানুয়ারি লিবিয়া সফরে যায়। সফর শেষে ১৬ জানুয়ারি দেশে ফিরে মন্ত্রী জানান, লিবিয়া বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি করে চিকিৎসক, নার্সসহ কৃষি ও নির্মাণ খাতে কর্মী নিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রতিনিধিদলের এই সফরের পর লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়া বাড়তে থাকে। ওই সফরে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে লিবিয়া সরকার এখন থেকে চাহিদাপত্র পাঠাবে। এর ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু এপ্রিলের পর থেকে লিবিয়া বাংলাদেশের জন্য কোনো চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছে না। ফলে জুলাই থেকেই জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ওই বাজারটি চালু করতে সব ধরনের উদ্যোগ চলছে। প্রসঙ্গত, লিবিয়ায় বর্তমানে ৮৩ হাজার বাংলাদেশি আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.