অর্থনৈতিক মন্দা কাটছে বাড়ছে জনশক্তি রপ্তানি
শরিফুল হাসান
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কেটে যাচ্ছে, বাড়ছে জনশক্তি রপ্তানি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গেছেন চার লাখ ৫১ হাজার ৫১৭ জন শ্রমিক। এর মধ্যে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৮ জনই গেছেন দুবাইয়ে। জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মন্দাসহ নানা সমস্যার কারণে বাংলাদেশ তার সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া হারালেও শেষ পর্যন্ত আশার আলো জিইয়ে রাখে দুবাই। গত আড়াই মাসেই প্রায় এক লাখ লোক দুবাই গেছেন। অর্থাত্ গড়ে প্রতিদিন এক হাজার লোক।বিএমইটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে কয়েক দিন কোনো শ্রমিককে ছাড়পত্র দেওয়া যায়নি। তা না হলে এ মাসে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা আরও বাড়ত। বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড ছুঁয়েছে। বছরের শুরুতে মন্দার কারণে জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে কিছুটা আশঙ্কা থাকলেও এখন সেই আশঙ্কা কেটে গেছে। জনশক্তি রপ্তানি বাড়ছেই। বিশেষ করে দুবাইয়ের বাজার ছিল খুবই আশাব্যঞ্জক। সেখানকার দূতাবাস, মন্ত্রণালয় সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করায় এই সাফল্য।বিএমইটির পরিচালক (ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল) সেলিম রেজা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, অক্টোবর মাসে ৪৩ হাজার ৩৩ জন এবং নভেম্বর মাসে ৩৯ হাজার ৬০৭ জন লোক বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে দেশের বাইরে গেছেন। ডিসেম্বরের ১০ দিনে গেছেন আরও ১০ হাজার ৪৫৯ জন। এ বছর সবচেয়ে বেশি লোক গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে গতকাল পর্যন্ত দুই লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৮ জন গেছেন। মন্দার মধ্যেও সার্বিক এই পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক।দুবাইয়ের বাজার বাংলাদেশের অনুকূলে থাকার কারণ জানতে চাইলে সেখানকার শ্রম কাউন্সিলর ও প্রথম সচিব নাসরিন জাহান টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মন্দার মধ্যেও দুবাইতে উন্নয়নকাজ অব্যাহত ছিল। ফলে সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। আর বাংলাদেশি শ্রমিকেরা এখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এখানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বেশ ভালো। দূতাবাস আশা করছে, দুবাইয়ের বাজার বাংলাদেশিদের জন্য আরও সম্প্রসারিত হবে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরবে লোক নিয়োগ একরকম বন্ধই ছিল। মালয়েশিয়াও সেভাবে লোক নেয়নি। তবে বছরের শুরু থেকে দুবাইয়ে লোক যাওয়ার হার বেড়েছে। প্রতি মাসেই সেখানে গড়ে ২১ থেকে ২২ হাজার লোক গেছে।দুবাইয়ের পর এ বছর সবচেয়ে বেশি লোক গেছে ওমানে। সেখানে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শ্রমিক গেছেন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে ৩৭ হাজার ১৪৬ জন, কাতারে ১১ হাজার ১৪৫ জন, বাহরাইনে ২৭ হাজার ২৬৭ জন, লেবাননে ১৩ হাজার ৪২৯ জন, লিবিয়ায় ২১ হাজার ৮৪১ জন শ্রমিক গেছেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সভাপতি গোলাম মুস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্দার কারণে আমরা জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে কিছুটা আশঙ্কায় ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সফলভাবে মন্দা মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছি। এখন মন্দা স্থিতিশীল। জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আশান্বিত হওয়ার মতো খবর।’ জানুয়ারি থেকে জনশক্তি রপ্তানি আরও চাঙা হবে বলে তিনি আশা করেন।



