রাজশাহী সিটি নির্বাচন

Spread the love

শিক্ষানগরের ৭২ কাউন্সিলর প্রার্থী স্কুলের গণ্ডি পার হননি

শরিফুল হাসান


আলমগীর হোসেন, মনসুর রহমান ও মনির হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা সাক্ষরজ্ঞান। তাঁদের পেশা ব্যবসা। এ তিনজনই আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন ১৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে ওই তিনজনসহ ৭২ জনই স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেননি। অন্যদের মধ্যে ২৬ জন মাধ্যমিক ও ৩৫ জন উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে ৯৪ জন অর্থাৎ ৫৭ শতাংশই পেশায় ব্যবসায়ী। কৃষিজীবী ২৩ জন। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার এ বিষয়ে প্রথম আলোকে জানান, কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়ের উৎস জনগণ জানতে পারবেন। ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁরা কাকে নির্বাচিত করবেন। ওই ১৬৫ জনের হলফনামা অনুসারে, অপর প্রার্থীদের মধ্যে ঠিকাদার ১৯ জন, চাকরি করেন ১২ জন, চারজন ঘরে কাজ করেন এবং দুজন পেশা উল্লেখ করেননি। সাতজন শিক্ষকও প্রার্থী হয়েছেন। তাঁরা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে রজব আলী ও আলতাফ হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুস সাত্তার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রেজাউল করিম, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে শাহবাজউদ্দিন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়াসউদ্দিন ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুস সামাদ। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাঈদুর রহমান ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী ফারুক হোসেন ট্রাকচালক। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী সাইদ মাহমুদ পেশায় ইমাম। এ ছাড়া ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে আকরাম আলী পেশার ঘরে লিখেছেন শ্রমিক।প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬৫ জনের মধ্যে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪১ জনই সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। এ ছাড়া পাঁচজন আছেন স্বশিক্ষিত, দুজন সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন, ২০ জন অষ্টম শ্রেণী পাস এবং চারজন দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ২৬ জন মাধ্যমিক, ৩৫ জন উচ্চমাধ্যমিক, একজন ডিপ্লোমা পাস, ২২ জন স্নাতক ও নয়জন স্নাতকোত্তর। শিক্ষাবিদ ও নাট্যব্যক্তিত্ব মলয় ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন শিক্ষিত ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তিনি নগরের শিক্ষা, সামাজিক ও সব ধরনের উন্নয়নে অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষানগর হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষার হাল যদি এমন হয়, তবে সেটি হতাশার। তবে একাডেমিক পড়াশোনা না থাকলেও তাঁরা যদি শিক্ষার গুরুত্বটা বোঝেন, স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হন, তাহলেও তাঁরা ভূমিকা রাখতে পারেন।’ সাধারণ কাউন্সিলর পদে একমাত্র নারী প্রার্থী ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাভান।স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৬৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৫৩ জন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৫৯ জন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির দুজন রয়েছেন। বাকি প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই।কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ৪১ জন বিভিন্ন মামলার আসামি। এর মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও পাঁচজনের মামলার তদন্ত চলছে। ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার বিচার চলছে। সাতজন মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.