চার বছরেও চালু হলো না কুয়েতের শ্রমবাজার
শরিফুল হাসান
বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার ছিল কুয়েত। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে চার বছর ধরে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আশা জেগেছিল বাজারটি ফের চালু হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সুখবর নেই।জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবেই বাজারটি চালু হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর বাজারটি চালুর জন্য সরকারের নিয়মিত যে কূটনৈতিক তৎপরতার কথা ছিল সেই তৎপরতা চোখেই পড়েনি।জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কুয়েতের বাজারটি চালু না হওয়ার একমাত্র কারণ সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতা। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর সরকারের পক্ষ থেকে বাজারটি চালুর জন্য যেভাবে তৎপরতা চালানোর কথা ছিল সরকার সেভাবে তৎপরতা চালাতে পারেনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।বাজার চালুর জন্য কী করা যেতে পারে জানতে চাইলে রিয়াজুল বাশার বলেন, ‘করার তো আছে অনেক কিছুই। বাজারটি চালুর জন্য সচিবের নেতৃত্বে আমরা একটি প্রতিনিধিদল কুয়েতে যেতে পারি। কুয়েতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আনতে পারি। কিন্তু আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চেষ্টাই করা হচ্ছে না।’রকিবুল ইসলাম নামে কুয়েতের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুয়েতিরা বাংলাদেশের কর্মীদের কাজে মুগ্ধ। এখানে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। এখনো যদি সরকারিভাবে নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো যায় তাহলে বাজারটি ফের চালু করা সম্ভব।’কুয়েতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি আছেন। সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুরে্যার (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর ১০ হাজার করে লোক কুয়েতে গেছেন। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে কুয়েতের পক্ষে অবস্থানের কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের সুনাম বেড়ে যায়। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত গড়ে ২৫ হাজার লোক দেশটিতে গেছেন। ২০০১ সালের পর ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে এবং প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার লোক কুয়েতে যেতে থাকেন। কিন্তু ২০০৮ সালে এসে বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে সেখানে যান মাত্র ১০ জন কর্মী। ২০১০ সালে ৪৮ জন এবং ২০১১ সালের গত তিন মাসে মাত্র ১৯ জন কর্মী দেশটিতে গেছেন।প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিকদের দাবি, কুয়েতে কিছু বাংলাদেশি অপরাধী জড়িয়ে পড়েছিল। তাই বাজারটি চালু করা যাচ্ছে না। এত দিনেও কেন বাজারটি চালু হলো না জানতে চাইলে বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কুয়েত পুনর্গঠনে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। বিষয়গুলো তাদের ভোলার কথা নয়। আমরা আশা করে আছি বাজারটি ফের চালু হবে। এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।’



