চার হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাবে কুয়েত

Spread the love

শরিফুল হাসান

মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করছেন এমন চার হাজার বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ হাজার প্রবাসী শ্রমিককে ফেরত পাঠিয়ে দেবে কুয়েত। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর কুয়েত টাইমস-এ এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ এসব শ্রমিকের ফেরার টিকিট কেনার জন্য এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় দরপত্র সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাতে কোন দেশে কতজন শ্রমিক যাবেন সেই সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য অনুয়ায়ী, কুয়েত মোট ১৭ হাজার অবৈধ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠাবে। এর মধ্যে চার হাজার বংলাদেশি। জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কিছু অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোট চার লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৩ জন শ্রমিক কুয়েতে গেছেন। বাংলাদেশি শ্রমিক ছাড়াও ভারতের সাড়ে তিন হাজার, মিসরের এক হাজার ২০০, ফিলিপাইনের এক হাজার, পাকিস্তানের এক হাজার, আফগানিস্তানের এক হাজার, সিরিয়ার ৭৫০, থাইল্যান্ডের ৫০০, ইরানের ৫০০, চীনের ৫০০, নেপালের ৫০০ ও ইথিওপিয়ার ৫০০ জন শ্রমিককে ফেরত পাঠাবে কুয়েত সরকার। এ ছাড়া সুদান ও তুরস্কের কিছু নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ১৯৯১ সালে ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের পর এত বেশিসংখ্যক বাংলাদেশিকে আর ফেরত পাঠানো হয়নি। এর আগে ২০০৬ সালে ১৬ হাজার অবৈধ শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সহসভাপতি মোরশেদ সানাউল্লাহ কায়ানি প্রথম আলোকে বলেন, কুয়েত এমনিতেই কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিচ্ছে না। এ ছাড়া এ বছরের শুরুর দিকে নানা দাবিতে সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ ও গণ্ডগোল করে শ্রমিকেরা। বাংলাদেশের শ্রমিকদের সামনে রেখে অন্যান্য দেশ, যারা বাংলাদেশের শ্রম-বাজারের ভালো চায় না, তারা এমনটা করেছে। বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর এটি একটি কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি এখনো দূতাবাসকে জানানো হয়নি। তবে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি জেনেছেন। যাঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাঁদের বেশির ভাগেরই আকামা শেষ হয়ে গেছে। অনেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে চেয়েছেন। এ ছাড়া অনেকে বিভিন্ন অপরাধে সাজা খেটেছেন, হয়তো এমন লোককেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পুরো বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা। শ্রম-বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। বায়রার সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন বছরের চুক্তি নিয়ে কুয়েতে গেলেও বেশির ভাগ শ্রমিক কুয়েতে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে থাকছেন। তাঁরা সেখানকার ভাষা ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। কাজেই এই শ্রমিকদের ফেরত না পাঠালেই ভালো হয়। কুয়েত সরকার বাংলাদেশিদের ব্যাপারে অনেক নমনীয়। কারণ, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় অনেক বাংলাদেশি কুয়েতিদের সম্পদ রক্ষা করেছেন। তাই আমরা এ ব্যাপারে কুয়েত সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব। তবে কেউ যদি অপরাধ করে থাকেন তাহলে তাঁদের ফেরত পাঠালে কিছু বলার নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.