বিএনপি-জামায়াতও ‘নৌকায়’
শরিফুল হাসান
গাইবান্ধা-৪ আসনে (গোবিন্দগঞ্জ) নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে ঠেকাতেই বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী নৌকায় ভোট দিয়েছেন।
এ আসনের ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫ জানুয়ারি ৫৮টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তাতে আনারস প্রতীক নিয়ে আবুল কালাম আজাদ ৫৯ হাজার ৮৬২ ভোট পান। আর নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান সাংসদ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী পান ১৮ হাজার ৮০৬ ভোট। গতকাল স্থগিত ৭২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়, মোট ভোটার দুই লাখ ৭৭।
তালুক কানুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গতকাল বিকেলে গিয়ে ভোটারদের কোনো সারি দেখা যায়নি। একজন-দুজন করে নারী ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসছিলেন। এই কেন্দ্রের ভোটার এক হাজার ৯৯০। ঘণ্টাওয়ারি হিসেবে জানা গেল, প্রথম এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২টি। সকাল ১০টায় ছিল ৮১টি, দুপুর ১২টায় ৩২১টি, সাড়ে ১২টায় ৫৩০টি এবং বেলা আড়াইটায় ৬৯৫টি। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাধন কুমার সরকার জানালেন, ‘তীব্র শীতের কারণে সকালে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম ছিল। তবে রোদ ওঠার পর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অনেক ভোটার আসতে থাকেন। এরপর আড়াইটা পর্যন্ত অনেক ভিড় ছিল।
পাশের তালুক কানুপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠে কথা হয় বৃদ্ধ মোছলেম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজকে ভোটের যে পরিবেশ, সেই পরিবেশ যদি ৫ জানুয়ারি থাকত, তাহলে অনেক ভালো হতো। তাঁকে সমর্থন জানালেন মোকছেদ খানসহ আরও কয়েকজন। তাঁরা জানান, কেবল আওয়ামী লীগের কর্মী নন, বিএনপি-জামায়াতের অনেকে এসেও আজকে ভোট দিচ্ছেন। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, বর্তমান সাংসদ মনোয়ার হোসেন এলাকার এত বেশি উন্নয়ন করেছেন যে বিএনপি-জামায়াতের অনেক কর্মী তাঁর নৌকা প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন।
তবে কারণটা ভিন্ন বলে জানালেন আবুল কালাম আজাদ। গতকাল দুপুরে গোবিন্দগঞ্জের কোমরপুর চৌমাথা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফেব্রুয়ারির পর থেকে গাইবান্ধার সব উপজেলায় জামায়াত-শিবির সহিংসতা চালালেও তিনি এখানে কোনো সহিংসতা চালাতে দেননি। আর সে কারণেই তাঁকে ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি বর্তমান সাংসদকে ভোট দিচ্ছে।
জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান মণ্ডল বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ মামলা দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মীকে হয়রানি করেছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের কিছু নেতা-কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তবে এই সংখ্যা খুব বেশি নয়।’
মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, আবুল কালাম আজাদ ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ৫ জানুয়ারি ৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টির দখল নিয়ে নেন। তিনি দাবি করেন, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যের উপস্থিতির কারণে আজ কেউ ভোট ডাকাতি করতে পারেনি।
আবুল কালাম আজাদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে দলের লোকজন সবাই ক্ষুব্ধ। এসব কারণে জনগণই আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে।’



