চট্টগ্রামে পর্যটনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কা
শরিফুল হাসান
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ হতে পারে সারা দেশে চলমান পর্যটনের পাঁচটি কার্যক্রম। আশঙ্কা সত্যি হলে পর্যটনশিল্পে বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি বছরে কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একমাত্র পর্যটন মোটেল ছিল সৈকত। এটি ভেঙে ফেলার পর ছয় বছর ধরে রেলওয়ের ১৪টি বিরামকক্ষ ইজারা নিয়ে সেখানে পর্যটনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। কিন্তু রেলওয়ে সম্প্রতি কোনো কারণ ছাড়াই সরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যটন করপোরেশনকে বাদ দিয়ে একজন ব্যক্তিকে ওই কক্ষগুলো ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকবার এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি যে দরে ইজারা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি টাকাও দিতে চায় করপোরেশন। কক্ষগুলো তবু পর্যটন করপোরেশনকে দিতে চাইছে না রেলওয়ে।করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, একটি আধুনিক মানের মোটেল গড়ে তুলতে চট্টগ্রামের স্টেশন রোডের মোটেল সৈকতটি ২০০৪ সালে ভেঙে ফেলা হয়। বৈঠকে চট্টগ্রামের নতুন রেলস্টেশনের ১৪টি বিরামকক্ষে মোটেল সৈকতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পর্যটন করপোরেশনের মধ্যে দুই বছরের একটি চুক্তি হয়। এর আওতায় রেলওয়ে মাসিক ৪০ হাজার ১০০ টাকা ভাড়ায় বিরামকক্ষগুলো করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। পরে করপোরেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে মাসিক ভাড়া ১০ ভাগ বাড়িয়ে করা হয় ৫১ হাজার ৫০৮ টাকা। সর্বশেষ রেলওয়ে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর চুক্তি নবায়ন করে এ বছরের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইজারার সময় বাড়ায়।মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বছরের জুলাইয়ে তারা জানতে পারে, কোনো নোটিশ ছাড়াই বিরামকক্ষগুলো বেসরকারি খাতে দিতে যাচ্ছে রেলওয়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াতে রেলওয়ের মহাপরিচালককে চিঠি দেয় করপোরেশন। কিন্তু চিঠির কোনো জবাব না দিয়ে করপোরেশনকে একটি চিঠি দিয়ে বিরামকক্ষগুলো খালি করে দিতে বলে রেল কর্তৃপক্ষ। পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হেমায়েতউদ্দিন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। মোটেল সৈকতের নামে বিরামকক্ষগুলো থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আসে। কাজেই সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লাভ না দিয়ে কক্ষগুলো বেসরকারি খাতে ন্যস্ত করার বিষয়টির যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।রেলওয়ে জানিয়েছে, পর্যটন করপোরেশনকে বাদ দিয়ে ওই জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট রোড এলাকার মডার্ন স্টোরকে। স্টোরের মালিক শামসুদ্দিন চৌধুরী ওই কক্ষগুলো নিয়ে ব্যবসা করতে চান। অভিযোগ উঠেছে, ওই জায়গা বরাদ্দ পেতে রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ প্রথম আলোকে বলেন, ৫ অক্টোবর করপোরেশনের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর দরপত্র ডেকে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে কেন অন্য প্রতিষ্ঠানকে কক্ষগুলো দেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেখে নয়, নিয়ম মেনেই কাজ দেওয়া হয়েছে। এখানে রেলওয়ের কিছু করার নেই।মোটেল সৈকতের ইউনিট ব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশের পর্যটনের তথ্যকেন্দ্র এবং কক্ষ সংরক্ষণ (রিজার্ভেশন) এখান থেকেই পরিচালিত হয়। এই জায়গা ছেড়ে দিতে হলে চট্টগ্রামে পর্যটনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের স্বার্থেই রেলওয়ের এমন উদ্যোগ বন্ধ করা জরুরি।হেমায়েতউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘দেশ ও পর্যটনের স্বার্থেই এই জায়গা করপোরেশনকে দেওয়া উচিত। আমরা সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।’



