অভিবাসন সম্মেলন ‘কলম্বো প্রসেস’

Spread the love

ঢাকা বৈঠকে লিবিয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে

শরিফুল হাসান

সম্মানজনক ও নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসী শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার এবং নারী অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে এবারের মন্ত্রী পর্যায়ের কলম্বো প্রসেস সম্মেলনে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে অভিবাসনবিষয়ক চতুর্থ এ সম্মেলন হচ্ছে ঢাকায়। মিসর বা লিবিয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কর্মপন্থাও ঠিক করা হবে সম্মেলনে।বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলন হচ্ছে। ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। কলম্বো প্রসেসের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায়।বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিকারী ১১টি এশীয় দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দেবেন।যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্র্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন। এর বাইরে থাকবে ইউরোপীয় কমিশন ও আইসিআরসির প্রতিনিধিদল। বিদেশে শ্রমিক প্রেরণকারী ১০টি দেশ ২০০৩ সালে কলম্বোতে প্রথম এই বৈঠক করে। এরপর ২০০৪ সালে ম্যানিলা এবং ২০০৫ সালে বালিতে এই বৈঠক হয়। প্রবাসীকল্যাণ সচিব জাফর আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। অতীতে কোনো দেশ এতটা গুরুত্ব দিয়ে কলম্বো প্রসেসের বৈঠক করেনি।এবারের সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়বস্তু কী, তা জানতে চাইলে জাফর আহমেদ খান বলেন, তিনটি বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এবার কলম্বো প্রসেসের নীতিমালা, আদর্শ, কর্মপন্থা—এগুলো লিখিতভাবে নির্ধারণ করা হবে। এবারের সম্মেলন শেষে একটি যুক্ত ঘোষণা থাকবে। এতে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সর্বশেষ, লিবিয়া ধরনের গোলযোগ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার যৌথ কর্মকৌশল ঠিক করা হবে এবারের বৈঠকে।প্রবাসীকল্যাণ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের উদ্বোধন করবেন। সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশই প্রথম এ ধরনের ব্যাংক করছে। এই সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। এ কারণেই শ্রমিকদের মর্যাদা, অভিবাসন খরচ কমানোসহ সব বিষয়ে আমরা আন্তরিক। আর অভিবাসনের সঙ্গে আরও অনেক বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে কারণেই অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।’মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল সম্মেলনের প্রস্তুতি পর্যায়ের বৈঠক হবে। পরদিন ২০ এপ্রিলের মূল বৈঠকে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেবেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে বক্তব্য দেবেন। ২১ এপ্রিল সম্মেলনের শেষ দিনে অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ বিষয়ে একটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে যৌথভাবে করণীয় স্থির করতে আরেকটি গোলটেবিল বৈঠক হবে। ওই দিন ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।আইওএম সূত্রে জানা গেছে, মূল সম্মেলনের আগে ঢাকায় ‘মাইগ্র্যান্টস ফোরাম ইন এশিয়া’ এবং এশিয়ার অভিবাসনবিষয়ক সংগঠনগুলোর জোট কারাম এশিয়ার প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। এ আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।ইউরোপীয় কমিশন, আরব দেশগুলোর সংগঠন জিসিসি, আসিয়ান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন তহবিল (ইউনিফেম), বিশ্বব্যাংক, ডিএফআইডি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কলম্বো প্রসেসের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে।আইওএমের বাংলাদেশের মুখপাত্র আসিফ মুনীর প্রথম আলোকে জানান, শ্রমিক প্রেরণকারী দেশগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আইওএম একটি গবেষণা করেছে। সম্মেলনে এটি উপস্থাপন করা হবে। আসিফ মুনীর জানান, কলম্বো প্রসেসের সিদ্ধান্তগুলো মানার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এবারের সম্মেলনে এমন একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.