২৯ কাউন্সিলরের ২২ জনই ব্যবসায়ী
শরিফুল হাসান
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত ২৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২২ জনই ব্যবসায়ী। গতবারের যে ১০ জন কাউন্সিল পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও নয়জন ব্যবসায়ী। একটি ওয়ার্ডের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ২৯ জন কাউন্সিলরের ১৩ জনই স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে নয়জন আবার শুধুই সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। তবে আশার কথা, নির্বাচিত ১০ নারী কউন্সিলরের মধ্যে একজন রয়েছেন সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। বাকিদের মধ্যে তিনজন উচ্চ শিক্ষিত। তাঁদের আটজনই পেশায় গৃহিণী। ব্যবসায়ী সাধারণ কাউন্সিলররা মৌসুমি ফল, ফসল ও ইট, বালু খোয়া থেকে শুরু করে ঠিকাদারি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। বাকি কাউন্সিলররা কৃষিকাজ, শিক্ষকতা ও আইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আবু বাক্কার আলী বলেন, ‘এতগুলো ব্যবসায়ী এবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর হয়েছেন। আমি নিজে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রথমত আমি তাঁদের স্বাগত জানাই। তাঁরা নিজের ব্যবসা থেকে আয় করে মানুষের সেবা করবেন। তবে সিটি করপোরেশনের এই জায়গাটা অনেক সম্মানের। আমি আশা করব, তাঁরা এই সম্মানের জায়গাটাকে ব্যবসায়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।’সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরুজ্জামান। তিনি পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৮৮৬ ভোট। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তাঁর পেশা বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ব্যবসা।১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনসুর রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। তিনি আম, লিচু ও বাগানের ব্যবসা করেন। তাঁর পাশাপাশি ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররাও পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজাম উল আযীম ছাড়া সবাই ব্যবসায়ী। সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ব্যবসায়ী ও মৎস্য খামারি। ২২ নম্বরের কাউন্সিলর এইচএসসি পাস আবদুল হামিদ সরকার হলফনামায় তাঁর পেশা শুধু ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই ব্যবসায়ী। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাঁর হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় লিখেছেন ষষ্ঠ শ্রেণী পাস। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। ১৪ নম্বরের কাউন্সিলর সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মোহাম্মদ টুটুল ইট, বালু ও খোয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের ব্যবসা করেন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এইসএসসি পাস আবদুস সোবহান কৃষি ও অন্যান্য ব্যবসায়ের কাজ করেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ারুল আমীন। এইচএসসি পাস এই কাউন্সিলর একজন আলু ব্যবসায়ী। প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ১৯ কাউন্সিলরের মধ্যে সাতজন বাদ দিয়ে সবাই ব্যবসায়ী। এই সাতজনের মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সামাদ পুঠিয়ার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরুজ্জামান রাজশাহী জজকোর্টের একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী।



