২৭ পরিদর্শক এএসপি হতে পারলেন না এবারও
শরিফুল হাসান
আট বছর আগেই তাঁরা পরিদর্শক থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন। পদশূন্য না থাকায় তখন পদোন্নতি পাননি। এ বছর পদশূন্য ছিল। তাই তাঁদের পদোন্নতির প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল। ফলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরও সেই শূন্য পদের অভাবেই আটকে গেল ২৭ কর্মকর্তার পদোন্নতি।
বিসিএস নিয়োগ বিধি ১৯৮১ অনুযায়ী, এএসপি পদের তিন ভাগের দুই ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে এবং বাকি এক ভাগ পদ পরিদর্শক থেকে বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে দেওয়ার কথা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওই হিসাবে বর্তমানে মঞ্জুরিকৃত এক হাজার দুটি এএসপি পদের মধ্যে ৩৩৪টি পদ পদোন্নতির মাধ্যমে দিতে হবে। এর মধ্যে শূন্য ৪৪টি পদ পূরণের জন্য ২৭ জন পুলিশ পরিদর্শকের একটি তালিকা গত ১৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তর।
এরপর ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, পদোন্নতির প্রস্তাবের সঙ্গে পদ বিন্যাস ছক পাঠানো হয়নি। এ কারণে মন্ত্রণালয় ওই ছকসহ ফের প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলে। কিন্তু দুই মাস হয়ে গেলেও পুলিশ সদর দপ্তর সেই ছক পাঠায়নি।
পদবঞ্চিত কর্মকর্তারা জানান, এএসপি পদে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য এ বছর ৪৪টি পদ খালি ছিল বলে তাঁরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। কিন্তু অধিকাংশ পদই ৩০তম বিসিএসের ক্যাডার দিয়ে পূরণ করা হয়ে গেছে। তাঁরা শিক্ষানবিশ এএসপি পদে জুন মাসে চাকরিতেও যোগ দিয়েছেন। ফলে এখন আর শূন্য পদ নেই। আর এ কারণেই পরিদর্শকদের পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি আড়াল করতেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পদবিন্যাস ছক না পাঠিয়ে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন ওই ছক চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
পুলিশের এই ২৭ কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ১৯৮৭ সালে ও ২১ জন ১৯৮৯ সালে উপপরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বাকিরা বিভাগীয় পদোন্নতি পেয়ে পরিদর্শক হন। এঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পদবিন্যাস ছক এলেই সেটি পিএসসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ছক না দেওয়ার কারণেই সেটি করা যাচ্ছে না।
জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরে পিএসসিতে পাঠানো হয়। এরপর পিএসসি তাঁদের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি কোনো ছক বিন্যাস চেয়ে থাকে সেটিও দেওয়া হবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিদর্শক প্রথম আলোকে বলেন, সারা জীবন সততার সঙ্গে চাকরি করেছেন। অনেকবার পদক পেয়েছেন। ২০০৪ সালে তাঁদের সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা সেটি পেয়েছের নয় বছর পরে। এখন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। একজন যোগ্য কর্মকর্তার জন্য এটি আসলেই হতাশার। তাই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করা উচিত।



